লেখকদের নারী চরিত্র
লেখকদের নারী চরিত্র
বঙ্কিম
দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের আয়েশা সেবা করতে গিয়ে ভালোবেসে ফেলে শত্রুপক্ষের বিধর্মী জগৎসিংহকে; এবং পরিবারের চাপানো বাগদান অস্বীকার করে।
বিষবৃক্ষর অনাথ ও বিধবা কুন্দনন্দিনী তৎকালীন হিন্দু সমাজের চাপানো কৃচ্ছ আর বঞ্চনাকে না মেনে হয়েছে বিদ্রোহী। পেতে চেয়েছে সেই সব কিছু, যা থেকে বঞ্চিত থাকত বিধবারা। আবার সামাজিকভাবে অবৈধ সম্পর্কের জালে দ্বিধান্বিত নগেন্দ্র একবার যখন কুন্দনন্দিনী আরেকবার সূর্যমুখীতে দিশেহারা, বঙ্কিম তখন উপস্থাপন করেছেন দৃঢ়চেতা দুই নারী চরিত্রকে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছোটগল্প ‘দেনা পাওনা’য় নিরুপমা চরিত্রটি তৎকালীন সমাজের সবচেয়ে ভীতিকর সামাজিক ব্যাধি ‘পণপ্রথা’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়
‘আমি কি কেবল একটা টাকার থলি, যতক্ষণ টাকা আছে ততক্ষণ আমার দাম? না বাবা, এ টাকা দিয়ে তুমি আমাকে অপমান কোরো না’
‘নষ্টনীড়’ গল্পে চারুলতা সুখী হওয়ার বাসনায় সামাজিকভাবে অস্বীকৃত সম্পর্কের বাঁধনে জড়িয়েছে।
চোখের বালি উপন্যাসে বিনোদিনী ভোগে-ভালোবাসায়, কোমলে-কঠিনে চিরাচরিত অবলা নারীর চরিত্রকে অস্বীকার করেছে অবলীলায়।
আবার আধুনিক নারী চরিত্রে পশ্চিমা ধাঁচের নারী চরিত্র গড়ে তোলেননি, চরিত্রদেরকে অনন্যরূপে প্রতিষ্ঠাও দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে শেষের কবিতার লাবণ্য বা গোরার সুচরিতার কথা তো বলাই যায়।
মীর মশাররফ হোসেন
বিষাদ–সিন্ধু এখানে এজিদের পাশাপাশি আরেক বলিষ্ঠ চরিত্র হলো জায়েদা। নিজের অধিকারের দাবি এবং স্বপত্নীর প্রতি তীব্র ঘৃণা তাকেও করেছে এজিদের মতো পরাক্রমশালী।
অপরদিকে জয়নাবের নিষ্ক্রিয় এবং অনড় চরিত্রের রূপায়ণ প্রশংসা করার মতো।
আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস উদাসীন পথিকের মনের কথায় বর্ণনা করেছেন সাহসী নারী জমিদার প্যারীসুন্দরীর কথা। কর সাহেব কেনীর ভয়ে যখন নারী–পুরুষ নির্বিশেষে তটস্থ, তখন প্যারীসুন্দরী আবির্ভূত হলেন উদ্ধারকর্তা হিসেবে। ,
‘প্যারীসুন্দরীর টাকা অনেক, জমিদারিও আমার অপেক্ষা অনেক বেশি, বুদ্ধিও বেশি, সাহসও বেশি। জমিদারের মেয়ে জমিদার তাহার কথাই স্বতন্ত্র।’
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
নারীর মূল্য তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি।
দেনা-পাওনা উপন্যাসে দেখা যায়, ষোড়শীর ঋজু চরিত্রের ভারে উদ্দেশ্যহীন ব্যভিচারী জমিদার জীবনানন্দ পর্যুদস্ত হয়েছে অনেকবার, তবে শেষমেশ স্বামীসঙ্গেই মুক্তি মিলেছে ষোড়শীর।
চরিত্রহীন-এর কিরণময়ী বা
পথনির্দেশ–এর হেমনলিনীর জীবন শুধুই প্রথাগত প্রেমনির্ভর।

No comments